মোহাম্মদ আদনান মামুন, শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ-গাজীপুরের শ্রীপুর চাঁদার দাবিতে মো. আতিকুল ইসলাম নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী ডেকে নিয়ে ছয়ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানের বিরুদ্ধে। স্বামীর সঙ্গে এমন অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ীর স্ত্রী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতার ব্যক্তিগত অফিস বন্ধ করে তালাবদ্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন সাংসদ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে যুবদল নেতা। এবিষয়ে ভুক্তভোগী ওষুধ ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন যুবদল নেতার অফিস বন্ধ করে তালাবদ্ধ করে স্থানীয়রা। এর আগে গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ওষুধ ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগী মো. আতিকুল ইসলাম (৫০) উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার জনৈক আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ডেকু গার্মেন্টসের সামনে সরকার মার্কেটে ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন।
অভিযুক্ত ফজলুর হক রোমান(৪৫) উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি মাওনা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম বলেন, “গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে এক নারী আমার দোকানে এসে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হার্টের ওষুধ চান। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানকে জানানো হয়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রোমানের ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে আমাকে মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে তার অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।”
তিনি বলেন, “সেখানে যাওয়ার পর আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে আমার দুই উরুতে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ছয় ঘণ্টা আমাকে সেখানে আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে।”
আতিকুলের অভিযোগ, তার সঙ্গে থাকা ওষুধ ও বিকাশ ব্যবসার মূলধনের ৫০ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, “আমাকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় আমার স্ত্রী বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বড় ভাই মো. শফিকুল ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন। এরপর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার চিকিৎসা করেন।
এদিকে, মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন এবং তার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে শ্লীলতাহানির অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ফজলুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এমপি।
ঘটনার পর ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী মো. আতিকুল ইসলাম শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”